আজকে আমরা AMH নিয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করে এমন তিনটি বিষয় নিয়ে কথা বলব।

  • প্রথমেই AMH যখন কমে যায় তখন তাঁরা জিজ্ঞেস করে থাকেন যে কেন আমাদের AMH কমে যাচ্ছে? AMH  কমে যাওয়ার কারণ গুলোর মধ্যে প্রথমেই আমরা যদি চিন্তা করি সেটা হচ্ছে আমাদের বয়স। জন্মের সময় প্রতিটা মেয়েই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যখন তার মাসিক শুরু হয় প্রতি মাসেই অনেকগুলো ডিম বড় হওয়া শুরু করে। Finally একটি ডিম maturation হয় এবং ovulation হয় এবং বাকি ডিমগুলো এই পরিক্রমায় নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রতিমাসে খরচ হতে হতে একটা পর্যায়ে তার সবগুলো ডিম শেষ হয়ে যায় এবং Menopause হয়ে যায়, তখন তার বাচ্চা হওয়ার আর সম্ভাবনা থাকে না। তাহলে AMH কমার প্রথম কারণ হিসেবে আমরা বলব যে বয়স বেড়ে যাওয়া।
  • দ্বিতীয়ত যে কারণটা আমাদের সামনে আসে সেটা হচ্ছে Genetic cause, অর্থাৎ অনেক সময় দেখা যায় যে পরিবারে একটা ট্রেন্ড থাকে যে তাদের সবারই AMH একটু আগেই কমে গিয়েছে। অর্থাৎ তাদের মাসিক  একটু আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা যদি জিজ্ঞেস করি জানতে পারবো হয়তো তাঁর মায়েরও মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল একটু আগেই, ৩৫ বছর বয়সেই। কিন্তু এদিকে আবার দেখা যাবে হয়তো  ওনারা চার ভাই বোন আছেন। তাঁর মায়ের হয়তো বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়সে।  কাজেই মাসিক বন্ধ হওয়ার আগেই তাঁর তিনটা চারটা বাচ্চা হয়ে গিয়েছে। আবার আমাদের যিনি পেশেন্ট উনি হয়তো বিয়ে করেছেন ৩০ বছর বয়সের পর। এবং উনি যখন চিন্তা করলেন যে ডক্টর দেখাবেন তখন আসতে আসতেই ওনার AMH এত কমে গিয়েছে যে উনি চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।
  • তৃতীয়ত যে কারণটা আমাদের সামনে আসে সেটা হল বিভিন্ন ধরনের Endocrine disease বা Auto Immuno Disease- এগুলোর কারণেও দেখা যায় যে AMH কমে যায়। ওভারির যে কমন ডিজিজে AMH আমরা কম পাই সেটা হচ্ছে chocolate cyst বা endometriosis। এ ধরনের পেশেন্টদের দেখা যায় প্রায়শই AMH কমে যায়। Ovary তে যদি সার্জারির হিস্ট্রি থাকে -যেকোনো সার্জারি সেটা টিউমার হতে পারে, সিস্ট হতে পারে, এই chocolate cyst হতে পারে। cyst operation এর সময় যেটা হয় আমরা যত সতর্কই থাকি না কেন কিছুটা ওভারিয়ান টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার হয় কি টিউমার বা সিস্ট যখন আমরা আলাদা করি তখন ওভারির সার্ফেসে যে ব্লিডিং হয় এটা কমানোর জন্য আমরা অনেক সময় coagulation ব্যবহার করি অর্থাৎ ব্লিডিং টা বন্ধ করার জন্য কিছু measure নেওয়া হয়। এর কারণেও কিছু ওভারিয়ান টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়।

 প্রায়ই পেশেন্টরা জিজ্ঞাসা করেন AMH কমে গিয়েছে, তারা বুঝবেন কিভাবে? AMH কমার আসলে clean cut কোন way নাই যে এটা দেখলে আমরা বুঝব আমার AMH কমে গিয়েছে। তবে আমরা প্রায়শই দেখি যে পেশেন্টরা এসে বলেন তাদের মাসিক আগে চার পাঁচ দিন থাকতো, দুই তিন দিন খুব ভালো ব্লাড যেতো। কিন্তু এখন আমার মাসিক একদিন দুইদিন থাকে, ব্লাড যাওয়ার পরিমাণও কমে গিয়েছে। এটা একটা সবচেয়ে কমন কমপ্লেন থাকে AMH কমে যাওয়া পেশেন্টের।

দ্বিতীয় যে ব্যাপারটা লক্ষ্যণীয় সেটা হচ্ছে আগে যার ২৮ বা ৩০ দিন পর পর মাসিক হতে থাকে  এই পেশেন্টটা এখন হয়তো এসে বলছেন যে তার এই গ্যাপটা কমে গিয়েছে। তার প্রতি আঠারো থেকে বিশ দিন পর পর মাসিক হচ্ছে। সুতরাং এই দুইটা কারণ AMH কমে গিয়েছে যাদের অথবা নরমাল AMH থেকে gradually কমে যাওয়া পেশেন্টরা এই দুইটা লক্ষণ প্রায়শই টের পেয়ে থাকেন।

এবারে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত যে প্রশ্নটি– পেশেন্ট জিজ্ঞাসা করেন যে AMH বাড়াবো কিভাবে। আসলে AMH বাড়ানোর কোন way নাই। এমন কোন ঔষধ নেই বা এমন কোন operation নেই যে যেটা দিয়ে আমরা AMH বাড়াতে পারি। আমরা যেটা করতে পারি -আমাদের remaining egg গুলোর হেল্থ ভালো রাখার জন্য, ডিমের কোয়ালিটি improve করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি।

  • সবার প্রথমেই আসবে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা অর্থাৎ আপনি balanced diet খাবেন যেটাতে যথেষ্ট পরিমাণে প্রোটিন থাকবে, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট থাকবে । আমরা সব সময় বলছি যে refined carbohydrate বাদ দেওয়ার জন্য অর্থাৎ চিনি, মিষ্টি যেগুলো সরাসরি শরীরে absorb হয়ে যায়। প্রোটিনের মধ্যে মাছ- মাংস থাকবে। মাছ কে আমরা সব সময় বেশি prefer করব কারণ মাছ হচ্ছে এমন একটা প্রোটিন যেখানে Omega 3 fatty acid থাকে যেটা আমাদের ডিমের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন  যথেষ্ট পরিমাণে রঙিন শাকসবজি খাব আমরা, যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করব এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস করা – দৈনিক সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করব। সেই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম করা। এই সবগুলোই আসলে একটা healthy Lifestyle এর criteria।অর্থাৎ  যা কিছু করলে আমরা ভালো থাকি, আমাদের সবকিছু ভালো থাকে, আমাদের ডিমও আসলে সেখানে ভালো থাকে। এছাড়াও কিছু খাবারের ওপরে আমরা জোর দেই যেমন : বেরি ফল, বাদাম। এছাড়াও আমরা নিজেরাও অনেক সময় আমাদের পেশেন্টদেরকে multivitamin, antioxidant দিয়ে থাকি। মনে করা হয় এই জাতীয় একটা Lifestyle যদি আমরা মেনে চলতে পারি আমাদের যে ডিম গুলো রয়েছে আমাদের শরীরের অন্যান্য জিনিসের সাথে সাথে তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

এবারে লাস্ট যে প্রশ্ন – AMH নিয়ে আমাদের সমস্ত আলোচনা যখন শেষ হয়ে যায়, সবাই তখন জিজ্ঞাসা করেন যে আমি কি মা হতে পারবো না?

প্রথমেই বুঝতে হবে যে ইনফার্টিলিটি অর্থাৎ যিনি বন্ধ্যাত্বে ভুগছেন তার বাচ্চা না হওয়ার কারণ শুধু AMH না।এখানে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কারণটা থাকতে পারে সেটা হচ্ছে male factor অর্থাৎ স্বামীর Semen analysis normal কি না। প্রথমে আমাদের দেখে নিতে হবে স্বামীর Sime analysis okay  আছে কিনা। মহিলাদেরও শুধু AMH না তার টিউব পেটেন্ট কিনা অর্থাৎ তার শরীরে যে দুটো fallopian tube আছে সেগুলো ঠিক আছে কিনা এই পরীক্ষাটা অলরেডি করা হয়েছে কিনা। না করা হয়ে থাকলে এটা করে নিতে হবে। এখন যদি একজন ভদ্রমহিলার tube block থাকে অথবা তার স্বামীর Semen profile অর্থাৎ তার sperm quantity অনেক কম থাকে অথবা quality অনেক খারাপ থাকে এ ক্ষেত্রে আসলে সরাসরি তার IVF এই চলে যাওয়া উচিত। আবার যদি এমন হয় যে male factor ভালো অর্থাৎ সিমেন কোন সমস্যা নেই, তার টিউবও ভালো আছে- এবার দেখতে হবে যে আসলে তার বয়স কত বা উনি কতদিন থেকে প্রেগনেন্সির জন্য চেষ্টা করছেন। উনার বয়সটা যদি কম থাকে – ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে থাকে এবং বেশিদিন হয়নি উনি চেষ্টা করছেন আমরা ওনাকে কিছুদিন  ovulation inducing drug দিয়ে ovulation ensure করে কয়েক মাস দেখতে পারি। তারপরে যদি না হয় তখন আমরা ART prescribe করব।

আবার যদি অলরেডি এমন হয় যে আমাদের কাছে আসার আগেই উনি অনেকদিন ট্রাই করে ফেলেছেন বা ওনার বয়সটাও বেশি  অর্থাৎ ৩৫ এর উপরে চলে আসছে, AMH কম সেক্ষেত্রে ওনার other factor normal থাকলেও খুব বেশি দিন আসলে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। যদি উনি কিছুদিন স্বাভাবিকভাবে বাচ্চার জন্য চেষ্টা করতে চান সেটা তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত allow করা যেতে পারে তারপরে ও না হলে ART চিন্তা করা দরকার।

যে জিনিসটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনা থেকে – প্রথমেই আপনার AMH কম হলে আপনি panicked হবেন না। আপনি একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞর সাথে পরামর্শ করবেন। তিনি আপনার other factor গুলো পর্যালোচনা করবেন। সবকিছু মিলিয়ে যেটা ভালো হয় সেই পদ্ধতিতে উনি বাচ্চা নেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে পরামর্শ দিবেন। এবং এখানে আপনার দিক থেকে এবং তিনিও মনে রাখবেন যে হাতে সময় কম যেহেতু  egg reserve কমে গিয়েছে  হয়তো খুব দ্রুতই আপনি menopause এ চলে যাবেন। সুতরাং আপনার জন্য প্রেগন্যান্সির চেষ্টা টা অন্য আর ১০ জনের  চেয়ে একটু দ্রুতই করা উচিত এবং actively করা উচিত।

 

আশা করি AMH কম সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো নিয়ে আপনারা সব সময় confusion এ থাকেন বা আপনাদের যে জিনিসগুলো চিন্তা করে হয়তো ভয় লাগে কিছুটা হলেও ভয় দূর করতে সাহায্য করবে এই আলোচনা। এরপরও যদি আপনাদের Low AMH নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকে আপনারা আমাদের কমেন্ট বক্সে রাখবেন, আমি বা আমার টিম এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে সত্যিই আনন্দিত হব।

বিস্তারিত জানতে- https://www.youtube.com/watch?v=87Bo7v7VPPY&t=19s

Leave a Reply