
AMH নিয়ে যত ভুল ধারণা :-
আজকে আমরা কথা বলব Low AMH নিয়ে কিছু ভুল ধারণা নিয়ে।
প্রথমেই, অনেকের মনে এই ধারণাটা কাজ করে যে কম বয়সে AMH কম হতে পারে না। অর্থাৎ বয়সের সাথে সাথে AMH কমবে এটাই স্বাভাবিক ধারণা। যখন একটা মেয়ের অল্প বয়সে অর্থাৎ ২৫-৩০ বছর বয়সে AMH কমে আসছে সেটাকে মানতে পারছে না বা বিশ্বাস করতে পারছে না। একটা জিনিস বুঝতে হবে আমাদের যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হাইপারটেনশন হচ্ছে অর্থাৎ কোন না কোন অর্গানের ডিসফাংশন এর জন্য একটা অসুখ হচ্ছে। আমাদের শরীরেও এরকম ডিম্বাশয়ে যদি কোন সমস্যা হয় সেটার কারণেও কিছু অসুখ হতে পারে। তেমনি AMH যদিও আমাদের naturally এইভাবে program করা যে বয়সের সাথে সাথে কমে যাবে, কিন্তু অনেক সময় এরকম হতে পারে যে অল্প বয়সে AMH কমে গিয়েছে। তারপরও যদি আপনার সন্দেহ হয় যে AMH আসলেই কমেছে কিনা আপনি একটা ভালো ল্যাবরেটরী থেকে পরীক্ষাটি আবার করতে পারেন।
দ্বিতীয়ট, যে ভুল ধারনাটা কাজ করে সেটা হল পেশেন্ট অনেক সময় এসে বলে দীর্ঘদিন ধরে আমার ট্রিটমেন্ট চলছে,আমাকে ডিম বড় করার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে, বা IUI করা হয়েছে অথবা IVF করা হয়েছে এজন্যই আমার AMH কমে গিয়েছে।এতদিন ধরে ট্রিটমেন্ট এর কারণে ডিমগুলো শেষ হয়ে গিয়েছে- এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমরা একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম নিয়ে জন্মগ্রহণ করি, এক মিলিয়নের মত। এরপর যখন মেয়েদের মাসিক শুরু হয় তখন দুই ডিম্বাশয় মিলে তিন থেকে চার লাখের মতো ডিম থাকে। প্রতিমাসে কয়েক হাজার ডিম বড় হওয়া শুরু করে এবং ফাইনালি প্রতি মাসে আমরা জানি যে একটা ডিম ম্যাচিউর হয় বা Ovulation হয়।এবং এই যে বড় হওয়ার প্রক্রিয়া এতে প্রতিমাসে প্রায় কয়েক হাজার ডিম মরে যায়। এক মাসে যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিমগুলো বড় হবে সেগুলো pre antral বা Antral follicle বলে একটা stage এ পৌঁছানোর পরেই সেগুলো বড় হয়।মানে আমরা চাইলেও এই মাসে আগামী মাসের ডিমগুলোকে ব্যবহার করতে পারি না। এই মাসে নির্দিষ্ট যে ডিমগুলো বড় হওয়ার কথা ছিল সেগুলোকেই আমি বড় করতে পারি বা সেগুলোর উপরই আমি কাজ করতে পারি। সেজন্যই আমরা অনেক সময় যে ধারণাটা করি যে ট্রিটমেন্ট এর কারণে হয়তো ডিমগুলো শেষ হয়ে গিয়েছে আসলে তা নয়। এটা এমনই একটা biological clock যেটা ক্রমান্বয়ে এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছাবে আমরা এটাকে reverse বা forward করতে পারবেন না।আমরা যদি আমাদের বয়সের সাথে চিন্তা করি, আমাদের কারো বয়স যদি এখন চল্লিশ হয় আমি পিছনে ৩৯ এও যেমন আসতে পারি না তেমন ৪১ এও পৌঁছাতে পারিনা। সুতরাং আমরা এই ভুল ধারণায় থাকবো না যে আমাদের ট্রিটমেন্ট এর কারণে ডিমগুলো শেষ হয়ে গিয়েছে।
তৃতীয়ত, যে ব্যাপারটার মুখোমুখি আমরা হই, পেশেন্টরা এসে বলেন- আমার AMH আগে বাড়ান তারপর আমি প্রেগনেন্সি ট্রাই করবো। Naturally ট্রাই করবো, প্রয়োজন হলে আমি বছর দুয়েক পরে IUI বা IVF করবো।এখানে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, AMH বাড়ানোর কোনো ট্রিটমেন্ট নেই।অর্থাৎ আপনার যে AMH আজকে ধরা পড়েছে এটা নিয়েই আপনাকে আগাতে হবে।আপনার বুঝতে হবে যে আপনার ব্যাংক রিজার্ভ এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে যে আপনি এটাকে আর খেয়াল খুশির মতো কাজে লাগাতে পারেন না।একটা ব্যবস্থা আপনার নিতে হবে যেনো আপনি খুব দ্রুতই এখান থেকে কিছু বেনিফিট নিতে পারেন।সেজন্য অনতিবিলম্বে একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করবেন। তিনি আপনার Low AMH এর সাথে আরো কি কি ফ্যাক্টর আছে সবকিছু মিলিয়ে আপনার জন্য একটা ট্রিটমেন্টের চিন্তা করবেন।
AMH বাড়ানোর জন্য অনেক সময় আমরা কিছু মেডিসিন ব্যবহার করি বা অনেকেই এসে বলেন যে আমাকে এটা দেওয়া হয়েছিল – বলা হয়েছিল AMH বাড়বে,এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়ে আমরা কথা বলব।
Coenzyme Q10, DHEA, L- Arginine ও ব্যবহৃত হয়।আমরা যদি DHEA নিয়ে কথা বলি, এটা নিয়ে অনেক আলোচনা, গবেষণা এবং meta-analysis হয়েছে। সর্বশেষ দেখা গিয়েছে যে তিন থেকে ছয় মাস DHEA ব্যবহার করলে ঠিক AMH এর মান যে উল্লেখযোগ্য ভাবে কিছু বাড়ে এমনটা দেখা যায়নি। এমনকি যেটা দেখা যায় যে লম্বা সময় ধরে যদি আপনি DHEA ব্যবহার করেন তখন কিছু androgenic side effect যেমন মুখে ব্রণ হওয়া, চুল পড়ে যাওয়া, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া এমনকি ওভারিতে সিস্ট ও দেখা যায়। সুতরাং DHEA কে আপনারা কখনো OTC Drug বা আপনি নিজ সিদ্ধান্তে গ্রহন করবেন, এরকম চিন্তা করা যাবে না। এটা অবশ্যই আপনাকে আপনার চিকিৎসক যদি মনে করেন দেওয়া দরকার, তাঁর তত্ত্বাবধানে আপনি তিন থেকে ছয় মাস নিতে পারেন।
এরপর বহুল ব্যবহৃত আমি বলব যে শুধু ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ নন, সবাই AMH কম দেখলেই coenzyme Q10 একটা ওষুধ দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন নামে এটা পাওয়া যায়। co enzyme Q10 একটা antioxidan। এটা ন্যাচারালি শরীরে থাকার কথা। আমাদের cell এর growth এবং maintenance এর জন্য এটা দরকার। এবং আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত যে ফ্রি রেডিকেল থাকছে এটা ড্যামেজ থেকে সেলকে প্রটেক্ট করার জন্য এটা কাজ করে। আমাদের শরীরে যত সেল বা কোষ আছে সবচেয়ে largest cell – oocyte কে । এবং coenzyme Q10 energy তৈরিতে mitochondria কে সাহায্য করে।
সুতরাং oocyte যেহেতু শরীরের largest cell, Q10 এখানেও antioxidant হিসেবে কাজ করলে এখানকার যে কোষগুলো তাদের quality improve করে। অর্থাৎ আমরা আমাদের যে remaining egg আছে তাদের quality maintain এর জন্য co enzyme Q10 নিতে পারি।
এরপর আসি L Arginine. Arginine একটি essential amino acid । এবং এটা vesodilator হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ যে কোন অর্গানে এটা রক্ত সরবরাহ বাড়ায়। blood flow বা রক্ত সরবরাহ বাড়ানো মানে কি – oxygenation বাড়বে, nutrition বাড়বে, সেখানকার কোষ গুলো এবং সেই অর্গানটা ওভারল ভালোভাবে কাজ করবে। একইভাবে আমরা যদি ওভারিতেও L Arginine এর কথা চিন্তা করি ওভারির blood flow বাড়বে, ওভারির কোষগুলোর more oxygenation হবে, nutrition পাবে, তাদের কোয়ালিটি ভালোভাবে maintain হবে।
বাকি যেগুলো আছে আসলে সেগুলোর তেমন কোন উল্লেখযোগ্য research আমাদের কাছে নেই। তবে ভবিষ্যতে যে ট্রিটমেন্টটা আমাদের জন্য আশার আলো নিয়ে আসতে পারে সেটা হল stem cell therapy। এটা নিয়ে এখনো clinical trial চলছে। এমনকি এও বলা হচ্ছে যে আমাদের ডিম্বাশয় এর মধ্যেই stem cell আছে যেটা থেকে আমরা germ cell তৈরি করতে পারি। সুতরাং এই ট্রিটমেন্টটা যখন একটা result এ পৌঁছাবে হয়তো সেদিন আমাদের পক্ষে AMH বাড়ানো সম্ভব হতেও পারে। তবে এখনো এই বিষয়ে অনেক clinical trial হচ্ছে, অনেক গবেষণা হচ্ছে। অনেকেই এটাতে আশার আলো দেখছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত AMH বাড়ানোর কোন ট্রিটমেন্ট আমাদের হাতে নেই।
এরপর যে ভুল ধারণাটা পেশেন্টের মধ্যে কাজ করে যে Low AMH হলেই IVF করতে হবে। বা Low AMH হলে আর naturally বাচ্চা হওয়া সম্ভব না। ব্যাপারটা আসলে তা না।
আমরা কি ধরনের ট্রিটমেন্টটা এই মুহূর্তে adopt করব বা কোন পেশেন্টের জন্য কোন ট্রিটমেন্ট টা উপযুক্ত হবে সেটা আসলে অনেকগুলো ফ্যাক্টর এর উপর নির্ভর করে। আমাদের female patient যিনি তাঁর AMH এর পাশাপাশি তার বয়স, কতদিন ধরে তিনি বিবাহিত বা তিনি কতদিন ধরে চেষ্টা করছেন এবং অলরেডি কি কি ট্রিটমেন্ট তিনি পেয়েছেন। এবার আসি হাসব্যান্ড এর Semen analysis report এর উপর। এই সবকিছু চিন্তা করে আপনার ট্রিটমেন্ট অপশনটা ঠিক করা হয়।
সুতরাং কখনোই এটা ভাববেন না যে আমার Low AMH এসেছে, আমাকে মনে হয় এখনই IVF করে ফেলতে হবে। অর্থাৎ Low AMH হলেও আপনার পক্ষে ন্যাচারালি প্রেগনেন্সি, IUI, IVF তিনটাই সম্ভব। আপনার চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত।
পঞ্চম যে ভুল ধারণাটা পেশেন্ট আমাদেরকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করেন যে আমার AMH এত কমে গিয়েছে আমার পক্ষে কি সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চা সম্ভব? অর্থাৎ তারা চিন্তা করেন যে Low AMH হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হবে কিনা? – না, AMH কম মানে আপনার ডিমের quantity কমে গিয়েছে অর্থাৎ রিজার্ভ কমে গিয়েছে। কিন্তু এইটা কোয়ালিটি নির্দেশ করে না।আমাদের একটা সুস্থ বাচ্চা হবে কিনা এইটা সবচেয়ে বেশি নির্ধারণ করে মেয়েদের বয়স। একই Low AMH নিয়ে ২৫ বা ৩০ বছরের মেয়ের বলতে গেলে জন্মগত ত্রুটি সম্পন্ন বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আবার এই একই AMH নিয়ে বয়স যদি হয় ৪০ সেক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটি সম্পন্ন বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অর্থাৎ জন্মগত ত্রুটি ব্যাপারটা নির্ভর করে বয়সের উপর। জন্মগত ত্রুটি বলতে সাধারণত structural যে problem গুলো হয় – হার্টে ছিদ্র, ঠোঁট কাটা বা হাতে অতিরিক্ত আঙ্গুল এই ব্যাপারগুলো নিয়ে আমাদের পেশেন্ট রা বেশি ভয় পান। তবে বলব যে আপনারা Low AMH দেখে আপনাদের মনের মধ্যে এই ভয়টা নিবেন না যে আপনাদের সুস্থ বা স্বাভাবিক বাচ্চা হওয়া সম্ভব কিনা। এই পুরো ব্যাপারটা আসলে একটা integrated চিন্তা অর্থাৎ অনেকগুলো কম্পনেন্ট একসাথে চিন্তা করে প্ল্যান করা বা একটা ডিসিশন এ পৌঁছা যে হ্যাঁ আপনার জন্মগত ত্রুটি সম্পন্ন বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বা কম। পুরোপুরি এটাকে কখনোই প্রতিরোধ করা সম্ভব না কিন্তু এইটা নিয়ে অনর্থক দুশ্চিন্তা করে আপনি আপনার যে চিকিৎসার সম্ভাবনা ছিল এটাকে বন্ধ করবেন না।
সবাই ভাল থাকবেন, ধন্যবাদ।